গুজরাট নির্বাচন ঃ পুরোনো মৃত্যু শয্যায়, নতুনের জন্ম যন্ত্রণা কী প্রচ্ছন্ন?

Posted by স্বাভিমান

গুজরাট নির্বাচন পুরোনো মৃত্যু শয্যায়, নতুনের জন্ম যন্ত্রণা কী প্রচ্ছন্ন?

(অরুণোদয়, ডিসেম্বর ২০১৭ ঃ সম্পাদকীয়)
মিডিয়া পণ্ডিতেরা বলেন ‘এন্টি-ইনকাম্বেন্সি বা দীর্ঘম্যাদী ক্ষমতার নেতিবাচক প্রভাব’, আমারা বলি ‘নিগেশন অব নিগেশন বা নেতির নেতি’। কেন? মাঝখানের ১৮ মাসের জনতা দল শাসন বাদ দিলে ১৯৬০ সালে গুজরাট রাজ্য গঠনের পর থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত গুজরাট রাজ্য শাসনে অধিষ্ঠিত ছিল কংগ্রেস দল। দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছরের শাসনের পর গুজরাটে বিজেপি’র উত্থানকে ‘এন্টি ইনকাম্বেন্সি’ বলে যেমনি চালিয়ে দেওয়া যায় না, ঠিক তেমনি এবারের নির্বাচনে আপাতদৃষ্টিতে অপ্রতিরোধ্য বিজেপি’র গতিরোধকেও এভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। এবারের গুজরাট নির্বাচনের ফলাফল একদিকে জিগ্নেশ-অল্পেশ-হার্দিকদের এবং মূখ্যতঃ জিগ্নেশদের স্থিতাবস্থা বিরোধী বিদ্রোহ ও কংগ্রেসি স্থিতাবস্থার রাজনীতির বিপরীতের ঐক্য, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িকতা ও উদারবাদী অর্থনীতির এবং কাল্পনিক গুজরাটি অস্মিতা ও দেশপ্রেমের সঙ্ঘীয় রাজনীতির বিপরীতের ঐক্যের ইঙ্গিত বহন করে।
বাণিজ্য ও বিভিন্ন উৎপাদনী উদ্যোগের প্রাধাণ্য থাকা ভারতীয় প্রদেশগুলির মধ্যে গুজরাট অন্যতম। সিন্ধু ও হরপ্পান সভ্যতা, সমুদ্র বন্দরের সাথে প্রাচীন বাণিজ্য ইত্যাদির যোগসূত্র গুজরাটের অবস্থানকে বিশেষত্ব প্রদান করেছে। স্বাধীনতা-উত্তর পর্যায়ে দুধ, মশলা, ডায়মণ্ড, চামড়া, বস্ত্র ইত্যাদি উৎপাদন ও বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বড় বড় প্রতিষ্ঠান। ব্যাপক দুগ্ধ কো-অপারেটিভগুলির সাথে যেমন কৃষক সম্প্রদায়ের যোগসূত্র রয়েছে, ঠিক তেমনি বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগ রয়েছে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর। এই প্রতিষ্ঠানগুলির পরিচালকদের মাধ্যমে জনগণের সাথে যোগসূত্র বজায় রেখে এই অর্থনৈতিক ভিত্তির এক ভারসাম্যের নীতির মাধ্যমেই কংগ্রেস ১৯৬০-১৯৯৫ এই দীর্ঘ কালপর্যায়ের শাসন বজায় রেখেছে। ১৯৬৯ সালে মোরারজী দেশাই ও ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসে ভাঙনের পর্যায়ে গুজরাটের সমাজে আরএসএস’র গভীর সাংগঠনিক অনুপ্রবেশ ঘটে এবং ১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে গুজরাটে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠিত হয়। ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বরে মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নবনির্মাণ আন্দোলন, ১৯৭৫ সালের মার্চে মোরারজি দেশাই’র অনির্দ্দিষ্ট কালের অনশন ইত্যাদি ঘটনা প্রবাহের প্রেক্ষিতে ১৯৭৫-এর জুনের নির্বাচনে কংগ্রেস ৭৫ আসনে নেমে আসে, ১৬৭ জনের পূর্ববর্তী বিধান পরিষদে কংগ্রেসের প্রতিনিধি সংখ্যা ছিল ১৪০। জরুরি অবস্থার পর ১৯৮০ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা কংগ্রেস পুনরায় ক্ষমতায় চলে আসে।
এর পরবর্তী পর্যায়েই ভারতীয় সমাজ – অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ভারসাম্য ভাঙতে শুরু হয়।           মণ্ডল-কমণ্ডলে সামাজিক আলোড়ণ ও নয়া উদারবাদী অর্থনীতির দিকে ঝোঁক শিখর বিন্দুতে পৌঁছে বাবরি মসজিদ ভাঙা ও মনমোহন সিংহের আর্থিক সংস্কার কর্মসূচী ঘোষণার মধ্য দিয়ে। এই ভারসাম্য ভাঙার শূন্যস্থান দিয়েই উত্থান ঘটে বিজেপি ও সংঘ পরিবারের। স্থিতাবস্থার প্রতি জনগণের নেতি ঘোষিত হয় এক প্রতিক্রিয়াশীল পথে। ১৯৯৫ সালে কেশুভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে গঠিত হয় গুজরাটে বিজেপি’র সরকার। তারপর দীর্ঘ ২২ বছর সংঘ পরিবারকে আর পেছন পানে তাকাতে হয়নি। ২০১৭ সালে এবারের নির্বাচনে গুজরাটের জনগণ দিয়ে দিল আরেক নেতি’র বার্তা, যা শিখর বিন্দু ছুঁতে পারেনি দেশব্যাপী এক গণতান্ত্রিক বিকল্প রাজনীতির অনুপস্থিতিতে। কী ছিল এই নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য?
‘হার্দিক ফ্যাক্টর’ বা পাতিদার আনামত আন্দোলন এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। ১৮০০ শতিকা পর্যন্ত পাতিদাররা শূদ্র বর্ণ হিসেবে বিবেচিত হতো। ব্রিটিশ রায়তওয়াড়ি ব্যবস্থার মাধ্যমে খাজনা বাড়ানোর লক্ষ্যে পাতিদারদের জমি দেওয়া হয় এবং তারা জমিমালিক কৃষিসমাজে পরিণত হয়। ১৮৬০ সালে বরোদার রেল লাইন নির্মাণের মাধ্যমে তূলা, তামাক, তেলবীজ উৎপাদন ও রপ্তানীর মাধ্যমে পাতিদারদের একাংশ সম্পদশালী হয় এবং বিদেশেও পাড়ি দেয়। আমেরিকার প্রতি দশ জন ভারতীয়দের মধ্যে একজন প্যাটেল এবং মোটেল ব্যবসার জন্য এই প্যাটেলরা বিখ্যাত। রাজনৈতিকভাবে প্যাটেলরা প্রভাবশালী শক্তি হয়ে পড়ে ভল্লবভাই প্যাটেল  উপ-প্রধানমন্ত্রী ও গৃহ মন্ত্রী থাকার সময় থেকে। প্যাটেল সমাজের অভ্যন্তরিণ অসাম্য ও শ্রেণি বিভাজন উল্লেখনীয়ভাবে বৃদ্ধি ঘটে। জবলেস গ্রোথের মাধ্যমে ব্যাপক শিক্ষিত বেকার যুবকদের ক্ষোভের উপর ভিত্তি করে ১৯৮৫ সালে প্যাটেলরা অবিসি সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলে যাতে মদত যোগায় সঙ্ঘ পরিবার। কিন্তু ১৯৯০ থেকে কৃষি বিপর্যয়, সরকারি বিনিয়োগের অভাব ও জবলেস গ্রোথ অশিক্ষিত বা অর্ধ-শিক্ষিত মজুরবাহিনী ও জমি-মালিকদেরও অস্থির করে তুলে। উদার অর্থনীতির দাপটে জনগণের সাথে যোগসূত্রের পুরোনো ব্যবসায় ও উদ্যোগকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিও চাপের মুখে পড়ে। রপ্তানি বাণিজ্যে মন্দা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলে। ১৯৯৫ সালের মন্ত্রীসভায় প্যাটেলদের প্রতিপত্তিশালী অংশের প্রতিনিধিদের থেকে অনেককে মন্ত্রী বানিয়ে প্যাটেল সমাজের অভ্যন্তরিণ ক্রমবর্ধমান এই ক্ষোভকে ম্যানেজ করার চেষ্টা হয়। এই প্রচেষ্টাকে আরও সুসংহত রূপ দেওয়া হয় ২০০২-এর দাঙ্গা ও মেরুকরণের রাজনীতির মাধ্যমে। কিন্তু ১৯৯৫ সাল থেকে উদারবাদী মডেলের দীর্ঘ জবলেস গ্রোথ পরিক্রমা, উচ্চশ্রেণির বিলাসের আকাঙ্খাকে মাথায় রেখে নগরায়ণ, কৃষি বিপর্যয়, পুরোনো উৎপাদনী আর্থিক কাঠামো ভেঙে পড়া, সস্তা মজুর বাহিনীর আবির্ভাব স্থিতাবস্থার ভারসাম্যে ধরিয়েছে ফাটল, পাল্টে দিয়েছে জাতি-বর্ণগত আকাঙ্খার স্বরূপ। অভ্যন্তরিণ এই রসায়নই প্যাটেল সমাজের নীচের অংশকে তাড়িত করে অন্যান্য অ-প্যাটেল অবিসি ও দলিতদের সাথে হাত মেলাতে, সংরক্ষণ বিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসে সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলতে। এই আকাঙ্খাকে প্রতিফলিত করতেই নীচু শ্রেণির প্যাটেলদের নেতা হিসেবে হার্দিক প্যাটেলের আবির্ভাব। বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও নয়া উদারবাদী অর্থনীতির সামনে এই নতুন শ্রেণি ডায়মেনশনকে শক্ত হাতে প্রতিহত করা ছাড়া বিজেপি’র আর কোনো উপায় ছিল না। গুজরাট সরকারের অত্যাচার পাতিদার আন্দোলনকে করে তুলে আরও আপোসহীন। স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহের সবচাইতে বিকশিত রূপ চোখে পড়ে জিগ্নেশের নেতৃত্বে দলিত আন্দোলনে, যেখানে ঐক্যের আহ্বান সঙ্ঘ পরিবারের একেবারে বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরও এক করে নেয়। জিগ্নেশদের এই র‍্যাডিক্যাল অবস্থান নিতে পারার আসল শক্তি লুকিয়ে আছে দলিত আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণির ব্যাপক উপস্থিতি ও শক্তি, যা হার্দিক – অল্পেশদের ক্ষেত্রে এতোটা শক্তিশালী নয়। হার্দিক-অল্পেশদের সমাবেশকে প্রভাবিত করতে জমিমালিক ও ব্যবসায়িক শ্রেণির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। এই শ্রেণি কৃষি বিপর্যয়, বিমূদ্রাকরণ ও জিএসটি’র আঘাতে বিজেপি’র উপর ক্ষেপে ছিল। কিন্তু শ্রেণি হিসেবে তাদের দোদুল্যমান অবস্থানের ফলেই মোদী-শাহ নেতৃত্বের ‘গুজরাটি অস্মিতা’ ও সাম্প্রদায়িক আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের এক বড় অংশ শেষ মুহূর্তে বিজেপি’র দিকে ঝোঁকে পড়ে।
স্থিতাবস্থার অভ্যন্তরে বিজেপি বিরোধী ক্ষোভ ও স্থিতাবস্থার বাইরে বেরিয়ে আসার প্রবণতা নিয়ে বিদ্রোহ - এই দু’য়ের জটিল সংমিশ্রণ ঘটানোর রণনীতি নিয়ে এগোয় কংগ্রেস এবং সেজন্যই উচ্চশ্রেণি-বর্ণকে আকৃষ্ট করতে রাহুল গান্ধীর মন্দির পরিক্রমা।
গুজরাট নির্বাচনের ফলাফল ভারতীয় পরিস্থিতিতে এক নতুন মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত। এই ইঙ্গিত স্থিতাবস্থা বজায় রেখে কংগ্রেসের দিকে নিঃশব্দে ঘুরে যাওয়া বা স্থিতাবস্থা ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্রোহের দেশব্যাপী বিকাশ অথবা এ দু’য়ের পরাজয়ে ফ্যাসীবাদের উত্থানের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিপ্লবী শক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণে স্থিতাবস্থা ভাঙার দেশব্যাপী বিদ্রোহের জন্য আমরা অপেক্ষা করে থাকব। 

     

শিশির দে-র ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে কতিপয় ব্যাক্তির উন্মত্ত আচরণ গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক : ১০ টি সংগঠন ও গণতন্ত্রপ্রিয় ব্যক্তিদের যৌথ বিবৃতি

Posted by Naya Ganatantra Labels: , , ,







ফেসবুকে একটি পোস্টকে ঘিরে দেবদুলাল দাস ও পঙ্কজ দাসের দ্বারা গত ১০ ডিসেম্বর করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় আইনজীবী শিশির দের বিরুদ্ধে। গণতান্ত্রিক চিন্তাচর্চা ও প্রকাশের স্বাধীনতার কথা মাথায় রেখে এই ঘটনায় আমরা নিম্ন-স্বাক্ষরকারীরা উদ্বিগ্ন। 

          আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী৷ শিশির দে শুধুমাত্র একজন আইনবিদই নন, ব্যক্তি হিসেবে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলমানবিক ও পরমত সহিষ্ণু৷ মানবিক আবেগের বহিঃপ্রকাশে ভাষা ও ভাবের ব্যবহারের জটিলতায় কেউ মানসিক আঘাত পেলে তাঁরা এর প্রতিবাদ করতে পারেন, কিন্তু নিজেদেরকে ধর্মের রক্ষক হিসেবে জাহির করে আক্রমণাত্মক আচরণ করা সুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক নয়৷ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধহীন, আইনের শাসনের প্রতি আস্থাহীন, ক্ষমতার দম্ভে বলীয়ান হয়ে শিশিরের প্রতি উন্মত্ত আচরণে নেমেছেন কতিপয় ব্যক্তি৷ শিশিরের বক্তব্যে কোনো ব্যক্তি আক্রমণ ছিল না, ছিল এক ভাবধারার প্রতি শ্লেষ৷ যুক্তি দিয়ে কেউ এই শ্লেষকে খণ্ডন করতে পারেন৷ কিন্তু এই পোস্টের পর যেভাবে কয়েকজন ব্যক্তি হুমকি ও বিদ্বেষমূলক প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন এবং সর্বোপরি অসাংবিধানিক যেসব মন্তব্য উঠে আসছে তা ভয়াবহ ও শান্তি সম্প্রীতির সুস্থ পরিবেশের জন্য বিপজ্জনকও বটে। এদের পোস্ট থেকে আমাদের ধারণা তারা শিশিরকে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করতে চাইছেন৷ এটাই সামাজিক অসহিষ্ণুতা, এটাই ক্ষমতার দম্ভ, এটাই জাতি ও জনগণের সামনে প্রধান বিপদ৷ এই প্রবণতাকে আমরা গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ বিরোধিতা করছি। 

          শিশির বাবুর এই মন্তব্য আইনের কোনো ধারা মতে কোনো অপরাধের আওতায় আসে না। এটা সংবিধান স্বীকৃত বাকস্বাধীনতার ব্যবহার। তারপরেও মামলা দায়ের করে আইনের অপপ্রয়োগ মুক্ত কণ্ঠ রোধের অপচেষ্টা বলে মনে করি। গোটা বিষয়কে যাতে এক সামাজিক বিতর্কের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করা হয়, হয়রানি করার মানসিকতা পরিহার করে প্রশাসনিক ন্যায়বিচার দেখানো হয়, তারজন্য আমরা করিমগঞ্জের জেলা উপায়ুক্ত ও জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি৷


ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি-র পক্ষে - অরূপ বৈশ্য।

★ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি-র পক্ষে - দেবাশিস ভট্টাচার্য ।

★পিপলস্ সায়েন্স সোসাইটি-র পক্ষে - হিল্লোল ভট্টাচার্য।

★ নিউ ট্রেড ইউনিয়ন ইনিশিয়েটিভ (আসাম রাজ্য কমিটি)-র পক্ষে - দেবব্রত শর্মা।

★ অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং ২২৮৭)-র পক্ষে মানস দাস।

★ কোরাস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা-র পক্ষে - বিশ্বজিৎ দাস।
★আসাদুল হক--মাইনোরিটি ডেমোক্রেটিক ইউথ ফেডারেশন, নগাওঁ, আসাম।

★ গণতান্ত্রিক লেখক সংস্থা-র পক্ষে - সঞ্জীব দাস।
★ নারী মুক্তি সংস্থা-র পক্ষে - স্নিগ্ধা নাথ।

★ প্রতাপ সাহিত্য পত্রিকা গোষ্ঠী-র পক্ষে - শৈলেন দাস।

দৈনিক প্রান্তজ্যোতি, ১৬ ডিসে, পৃ: ১৬
১। মৃন্ময় দেব ২। মন্দিরা নন্দী ৩। মানস সেনগুপ্ত ৪। সুশান্ত কর ৫। শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার ৬। বিজয়া করসোম ৭। তমোজিত সাহা ৮। সিদ্ধার্থ দত্ত ৯। পরম ভট্টাচার্য ১০। সুজিৎ নাগ ১১। কমল চক্রবর্তী ১২। তানিয়া লস্কর ১৩। সর্বজিৎ দাস ১৪। টিংকু গুপ্ত ১৫। অরিন্দম দেব ১৬। নভোস্মিতা দাস ১৭। অঞ্জন শুক্লবৈদ্য ১৮। অজন্তা নাথ ১৯। ধরিত্রী শর্মা ২০। কৃষাণু ভট্টাচার্য  ২১। সুমন দে ২২। কুহেলী দেবরায় ২৩। নীলকান্ত দাস ২৪। কাবেরী দাস ২৫। দীপ তরাত ২৬। অনিন্দিতা চক্রবর্তী ২৭। সুমনা চৌধুরী (কাছাড়) ২৮। সুমনা চৌধুরী (করিমগঞ্জ) ২৯। সাবিনা রহমান চৌধুরী ৩০। রফিউল মজুমদার ৩১। আদিমা মজুমদার ৩২। শহিদুল হক ৩৩। শামীম আহমেদ ৩৪। সারোয়ার জাহান ৩৫। আজিম বড়ভূইয়া ৩৬। ফারুক লস্কর ৩৭। শেখাওয়াত মজুমদার ৩৮। সামসুল হুদা ৩৯। ফজলুল করিম ৪০। পীযুষকান্তি দাস ৪১। জামাল উদ্দিন ৪২। সৌম্য চক্রবর্তী ৪৩। বাবর চৌধুরী ৪৪। পারভেজ খসরু লস্কর ৪৫। দেবকান্ত দাস ৪৬। অপর্ণা দেব ৪৭। দেবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ৪৮। শুভ্রজ্যোতি দাস ৪৯। সুজিৎ দে ৫০। ইমাদুল ইসলাম চৌধুরী  ৫১। অলিউল্লাহ্ লস্কর ৫২। নিপ্পন নাথ ৫৩। সুদীপ দে ৫৪। এদিব ইমন ৫৫। পিয়া দাস ৫৬। দেবাংশু নাথ ৫৭। প্রলয় দত্ত ৫৮। দেবকুমার হালদার ৫৯। অরুণাভ গাঙ্গুলি ৬০। অনীক ভট্টাচার্য ৬১। রাহুল সিনহা ৬২। শুভ্রব্রত চৌধুরী ৬৩। সীতাংশু দে ৬৪। সৌম্যদীপ রায় চৌধুরী ৬৫। নজমুল হুসেন লস্কর ৬৬। মৌপিয়া চৌধুরী ৬৭। এম বাহারুল ইসলাম ৬৮। সবিতা ভট্টাচার্য ৬৯। বিনীতা হাজারিকা ৭০। বিশ্বজিৎ দাস (করিমগঞ্জ) ৭১। মনীষ দাস ৭২। সাহাবুদ্দিন ৭৩। আবুল কাসিম তাপাদার ৭৪। এ.কে. বাহাউদ্দিন ৭৫। মাসুক আহমেদ মজুমদার ৭৬। প্রতিমা পাল ৭৭। সাহাবুদ্দিন ৭৮। নাজির হুসেন মজুমদার ৭৯। সেতাব উদ্দিন ৮০। সাদিক লস্কর ৮১। নুমান আহমেদ ৮২। আবু তাহের হুসেন ৮৩। সাবর্ণি পুরকায়স্থ ৮৪। রঞ্জন কান্তি ভট্টাচার্য ৮৫। সুব্রত রায় ৮৬। প্রবাল দত্ত ৮৭। হিজবুল ফিদা কাদির ৮৮। মনদীপ দেবজা ৮৯। আতিক আহমেদ চৌধুরী ৯০। আকাশ সরকার ৯১। শ্রুতয়া ভট্টাচার্য ৯২। রুহুল আমিন ৯৩। সুমিতা চৌধুরী ৯৪। সাদিকা খানম ৯৫। সুকান্ত নাথ ৯৬। মুস্তফা লস্কর ৯৭। অপরাজিতা দে ৯৮। প্রীতি দাস ৯৯। অনন্যা গুপ্ত ১০০। জগৎ সিনহা ১০১।  অরুণাংশু ভট্টাচার্য ।  ১০২। এ. সবুর তাপাদার। ১০৩। শ্যামা পাল ১০৪। দুলু দাস ১০৫। আতিকুল বারি ১০৬। অনীক ভট্টাচার্য ১০৭। সৌরভ হাসান। ১০৮। শাস্বত পুরকায়স্থ। ১০৯।আনছারুল্লাহ তালুকদার। ১১০।ডাঃ রাজীব কর। ১১১।জাকির হুসেন।১১২। রতিশ দেব। ১১৩। জুবাইর আহমেদ মজুমদার। ১১৪। বাসব রায়। ১১৫। পারিজাত এন ঘোষ।

(আরো যারা সমর্থন জানাতে থাকবেন, তাদের নাম এখানে জুড়ে যাবে। কাগজে যদিও প্রথম ১০৭টি নামই চলে গেছে। )

ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি’র ২৬/১১/২০১৭ গণ-কনভেনশনে গৃহীত প্রস্তাবসমূহ :

Posted by স্বাভিমান Labels: , , , ,





ন্দোলন কর্মসূচী
(ক) নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের ভিত্তিতে আসামের বিভিন্ন জেলায় কনভেনশন করা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখা।
(
খ) নিম্নলিখিত দাবিসনদের ভিত্তিতে বরাকের তিন জেলায় ন্যূনতম একটি করে জনসভা করা এবং ডিসেম্বরের শেষে কোরাসের উদ্যোগে বরাক উপত্যকা পরিক্রমায় কনভেনশনের সিদ্ধান্ত সমূহ প্রচার করা।
(
গ) শুধুমাত্র এইচপিসি-র বিষয় নিয়ে ও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনার জন্য অনতিবিলম্বে ফোরামের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সভা ডাকা হবে। এই সভায় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানায় কনভেনশন।
(
ঘ) বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করে মানুষের মধ্যে এনআরসি-ভীতি দূর করা ও তার জন্য বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশগুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আইনজীবীদের পরামর্শ উপস্থাপন করা। নাগরিকদের হেনস্তা থেকে বাঁচাতে আইনি সহায়তা প্রদান।
                                             ~~~০০০~~~
নীতিগত প্রস্তাবসমূহ
(১) এনআরসি ও নাগরিকত্বের বিষয়ে :
এনআরসি প্রক্রিয়া যখন শুরু হয়, তখন বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকরা একে স্বাগত জানিয়েছিলেন। অনেকেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন এই ভেবে যে স্বাধীনতা-উত্তর পর্যায় থেকে আসামে নাগরিকত্বের প্রশ্নকে ঝুলিয়ে রেখে ভারতীয় নাগরিকদের হয়রানি ও এনিয়ে রাজনীতির দুষ্টচক্রের যে দীর্ঘ খেলা চলে আসছে তার হয়ত এক স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু বারবার নাগরিকত্ব প্রমাণের মানদণ্ড বদলে দিয়ে এনআরসি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলা হচ্ছে ও ভারতীয় নাগরিকদের হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। এনআরসি প্রক্রিয়া নিজেই এক বিভ্রান্তি ও ভীতির বাতাবরণ তৈরি করেছে। নাগরিকত্বের প্রশ্নকে আমরা মানবিক ও সাংবিধানিক অধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে আগ্রহী। যেহেতু ১৯৭১-এর ২৪ মার্চ মধ্যরাত্রি ডেটলাইন হিসেবে সব পক্ষ মেনে নিয়েছে, নাগরিকত্ব প্রশ্নের স্থায়ী সমাধানের স্বার্থে আমরাও তাই মেনে নিচ্ছি। নাগরিক পরিচয়ের প্রশ্নে আর কোনো ধরনের বেঞ্চমার্কের আমরা বিরোধী। বারবার পদ্ধতি ও প্রমাণপত্রের মানদণ্ড বদল করে ভারতীয় নাগরিকদের হয়রানি বন্ধ করা,উপর্যুপরি বন্যা নদী-ভাঙন ইত্যাদিতে সর্বস্বান্তদের প্রমাণপত্র দাখিলের ব্যাপারে যথেষ্ট নমনীয় পদ্ধতিতে মানবিকতার সাথে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা ও এনআরসি যেহেতু নাগরিক চিহ্নিত করবে, তাই ডি-ভোটার ও ডিটেনশন ক্যাম্প উঠিয়ে দেওয়ার দাবি আমরা উত্থাপন করছি।
(২) বিশ্বায়ন, বেসরকারিকরণ ও শ্রমজীবীদের অধিকার :
আমাদের চোখের সামনে বরাক উপত্যকার একটি বৃহৎ শিল্পোদ্যোগ এইচপিসি বন্ধ হয়ে গেল। দুর্নীতি অছিলা মাত্র, আসলে গোটা দেশব্যাপী বেসরকারিকরণের যে আয়োজন চলছে এ তারই পরিণতি। শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন দেওয়ার মতো মানবিক আচরণটুকুও সরকার দেখাল না। সমস্ত সরকারি উদ্যোগকে ব্যক্তি-মালিকানায় দিয়ে দেওয়া, বিদেশি পুঁজির লুণ্ঠনের জন্য শ্রম ও বিত্তীয় সংস্কার, কৃষি বিপর্যয়, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিল্পে বিনিয়োগে অনীহা ইত্যাদি সবকিছু মিলে ভয়ানক রুজি-রোজগার ও বেকারত্বের সমস্যা সৃষ্টি করেছে। চা-শ্রমিক, পরিবহণ শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, অঙ্গনওয়াড়ি আশা কর্মী, ক্ষুদ্রশিল্পের শ্রমিক, ক্যাজুয়্যাল ও ঠিকা শ্রমিক ইত্যাদি সবাই ন্যূনতম মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। সরকার তাদের দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে প্রচলিত আইনগুলিই বদলে দিতে চাইছে। শ্রমিকদের মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষার ন্যায্য অধিকার ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানায় শিল্পায়নের প্রয়োজন।
(৩) দেশপ্রেম ও উন্নয়ন:
দেশ শুধুমাত্র এক ভূগোল নয়, এই ভূগোলে বসবাসকারী মানুষকে বোঝায়। এই মানুষকে ভালবাসার নামই দেশপ্রেম। মানুষের প্রতি ভালবাসা ব্যক্ত হয়ে উঠে সবচাইতে নিপীড়িত বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণি-বর্ণ-জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের এক দেশব্যাপী ধারণার মধ্য দিয়ে। দেশকে ভূগোল ও সীমানা রক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে এই বঞ্চিত মানুষরা থেকে যায় আড়ালে, তাদের উপর নিপীড়ন পায় বৈধতা। এই বৈধতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিপীড়িতের পক্ষে যারা বৌদ্ধিক চর্চা করেন বা সমাজ কর্মী হয়ে উঠেন তাদের উপর নেমে আসে আক্রমণ। দেশপ্রেমের নামে এই আক্রমণের ইতিমধ্যে বলি হয়েছেন বেশ কজন বুদ্ধিজীবী ও দলিত-সংখ্যালঘু মেহনতি মানুষ। এই কল্পিত দেশপ্রেমের বিপরীতে প্রকৃত দেশপ্রেমকে রক্ষা করার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। এই দেশপ্রেম প্রোথিত থাকবে এমন এক উন্নয়ন মডেলে যা ভারতবর্ষের শ্রম ও প্রকৃতিকে ধ্বংসাত্মকভাবে শোষণ করে না।
(৪) শিক্ষা ও স্বাস্থ্য :
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সংকট দেখা দিচ্ছে ক্রমবর্ধমান আর্থ-সামাজিক অসাম্য ও বেসরকারিকরণের মাধ্যমে ব্যক্তি পুঁজির প্রাধান্যের ফলে। ভাল শিক্ষা ও ভাল চিকিৎসা হয়ে পড়ছে ব্যয়বহুল। সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে মুনাফার লক্ষ্য হয়ে পড়েছে প্রধান। শিক্ষায় সরকারি ব্যয় হয়ে পড়ছে সংকুচিত, ফলে মাতৃভাষায় পঠন পাঠনের সুযোগও হারিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভয়ানক বিপর্যয়ের হাতছানি শোনা যাচ্ছে। আমেরিকান ধনকুবের জর্জ সরস ও বিল গ্যাটস স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন খুলেছেন এবং ফাউন্ডেশনের অর্থ নিয়ে ইতিমধ্যে ভারতে হাজির হয়েছেন। চিকিৎসা ব্যবসায়ের মাধ্যমে বেসরকারিকরণ ও মুনাফাই যে তাদের প্রধান লক্ষ্য এব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সংগ্রামকে জোরদার করা আজকের সময়ের দাবি।
(৫) বৈচিত্র্যের উপর আঘাত ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা :
বৈচিত্র্যের উপর আঘাত আজকের ভারতবর্ষে এক প্রধান বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এক ভাষা-এক ধর্ম-এক সংস্কৃতির প্রচারের রাষ্ট্রীয় আয়োজনের পেছনে চলছে ক্ষমতার ও বাজারের কেন্দ্রীভবন। দিল্লি থেকে গোটা ভারতবর্ষ শাসন করার মনোবাসনা পূর্ণ করতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিক বিভাজনের জিগির তোলা হচ্ছে, রাজ্যকে করে দেওয়া হচ্ছে পঙ্গু, যারা এখনও ভাষিক-সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য সমস্ত দরজা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বহুত্ববাদের বিপরীতে একমত ও একপথের এই শাসন কায়েম করার মানসিকতা অন্তর্বস্তুতে ফ্যাসিস্ট চরিত্রের। এই বিপদকে আমাদের রুখতে হবে।
_______________________________________
নির্দিষ্ট প্রস্তাবসমূহ :
(১) প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী অবিলম্বে ডিটেনশন ক্যাম্পউঠিয়ে দিতে হবে। (২) এনআরসি যেহেতু নাগরিকত্ব নির্ধারণ করবে, তাই ডি-ভোটারউঠিয়ে দিয়ে নাগরিকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। (৩) ১৯৭১র ২৪ মার্চের মধ্যরাত্রির আগে আসামে বসবাসকারীদের নাগরিকত্ব দিতে হবে কোনো শ্রেণি বিভাগ ছাড়া। (৪) পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ১৯৬৬র ভোটার তালিকাকে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করা ও সরকারি অফিসারকে সামনে রেখে পুলিশ ভ্যারিফিকেশন করার প্রক্রিয়াকে ফোরাম বিরোধিতা করছে। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ যেহেতু নাগরিকত্বের ভিত্তিবর্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন নিজেই যেহেতু সরকারি বিভাগ, তাই উপরোক্ত নিয়ম বাতিল করা। (৫) এইচপিসি কর্মীদের বকেয়া বেতন অবিলম্বে প্রদান করতে হবে। (৬) সরকারি উদ্যোগে এইচপিসি চালু করতে হবে। (৭) নদী-ভাঙন রোধ করতে হবে। (৮) সম-কাজে সম-মজুরি প্রদান ও চা-শ্রমিক সহ সব ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আইনের অধীনে ন্যূনতম মজুরি প্রদান করতে হবে। (৯) সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করা এবং এসব ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ বন্ধ করা। (১০) উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ও অন্যান্য মাশুলের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি রোধ করে পূর্বাবস্থায় নিয়ে যাওয়া। (১১) সবার মাতৃভাষায় পঠনপাঠন ও ভাষিক-সাংস্কৃতিক অধিকার সুনিশ্চিত করা। (১২) ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা। (১৩) ব্রহ্মপুত্রের চর এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ইত্যাদির পরিসেবা সহ উক্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের জমির স্থায়ী পাট্টা প্রদানের দাবিতে উদ্যোগ নেওয়া। (১৪) শিক্ষার ক্ষেত্রে স্কুল কলেজে বৈজ্ঞানিক অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার এবং বরাকের নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার করতে হবে।(১৫) চা-বাগানের যুবক-যুবতীদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-চাকরির জন্য সংগ্রাম করা, চা-বাগানের মানুষের ভাষা-সংস্কৃতির বিকাশের জন্য উদ্যোগ নেওয়া। চা-শ্রমিকদের মজুরি ৩৫০টাকা বৃদ্ধি করার দাবি জানানো। নিজ মাতৃভাষায় চা-শ্রমিকদের পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাপ্রদান চালু করার দাবি জানানো। সংগঠনের কাজ করার ক্ষেত্রে বাগান কর্তৃপক্ষ যে বাধা দেয় ও কূটচালের আশ্রয় নেয় তার মোকাবিলা করা। (১৬) নদী-উপনদীগুলোর জলে কোয়ারিগুলোর যানবাহনের মাধ্যমে পেট্রোল-ডিজেল ছড়িয়ে পড়ে। এই জলগুলোই চা-বাগান সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে এই এলাকাগুলোর মানুষ ও পশুপাখির মধ্যে বিভিন্নধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। জল-দূষণের বিরুদ্ধে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া।(১৭) চা-শ্রমিক ও প্রাক্তন চা-শ্রমিকদের তপসিলি জাতি-জনজাতির স্বীকৃতি দেওয়া ও চা-শ্রমিক ও প্রাক্তন-শ্রমিকদের জমির পাট্টা প্রদান। (১৮) শিলচর মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন বিভাগ পরিচালনার ক্ষেত্রে যেভাবে বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে তার বিরোধিতা করা। (১৯) শিলচর মেডিক্যাল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগকে আধুনিক সরঞ্জাম, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগে রূপান্তরিত করতে হবে। (২০) সাম্প্রদায়িক বিভাজনের জন্য সচেষ্ট থাকা দুষ্টচক্রদের চিহ্নিত করা, ইতিহাস বিকৃত করার ও ঘৃণার বাতাবরণ তৈরির অপচেষ্টা সম্পর্কে সচেতন থাকা ও এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

অরুণোদয়:সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০১৭ সংখ্যা

Posted by স্বাভিমান Labels: ,



          রুণোদয় শিলচর শহরের প্রাচীনতম পত্রিকা। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন প্রয়াত সুনীল দত্তরায়। গেল এক দশকের বেশি সময় জুড়ে এর সম্পাদনা করছেন চন্দন সেনগুপ্ত। এখন থেকে আমরা চেষ্টা করব এর প্রতিটি সংখ্যা স্বাভিমানে তুলে দিতে। শুরু শুরুতে সামান্য প্রযুক্তি গত অসুবিধের জন্যে কোথাও কোথাও পাঠ পড়তে অসুবিধে হবে, কিন্তু আমরা আশা করব অচিরেই সেটি দূর করতে। মাঝে মাস কয় বেরোয় নি, এখানে আপনারা পড়তে পাবেন এর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০১৭ সংখ্যা। 

           এতে "সমাজবাদের ভবিষ্যত' শিরোনামে রয়েছে মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক ভাস্কর নন্দীর একটি লেখা, "রোহিঙ্গা সমস্যা এবং বর্তমান অবস্থা' লিখেছেন সিদ্ধার্থ দত্ত, "নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল--২০১৭' শিরোনামে লিখেছেন তানিয়া লস্কর, সুশান্ত করের অনুবাদে বেরোচ্ছে দিগন্ত শর্মার ধারাবাহিক  "১৯৮৩র অসম---নিপীড়িত বাঙালি হিন্দু' । এ ছাড়াও রয়েছে নিয়মিত কিছু সংগ্রাম সংবাদ প্রতিদেবন।



হয়তো, আপনার এটি পড়তে ফ্লাসপ্লেয়ার দরকার পড়তেও পারে। নামিয়ে নিন এখান থেকে।  মোবাইলে পড়বার জন্যে স্ক্রাইবড এপ দরকার পড়তে পারে।  পিডিএফে পড়তে পারবেন না, তাদের জন্যে ছবিতেও রইল। দুবার ক্লিক করুন। ছবি বড় হয়ে যাবে, পড়তে পারবেন। 



















শ্রমিক শ্রেণির উদ্দেশ্যে বিপ্লবী প্রস্তুতির আহ্বান জানানোর সময় সমাগত

Posted by স্বাভিমান Labels: , ,


(অরুণোদয় সম্পাদকীয়)

       
    ভারতীয় সমাজে অসাম্যের কদর্য চেহারা প্রকাশ করেছেন দুই স্বনামধন্য লেখক। ‘একুশ শতকের পুঁজিবাদগ্রন্থের লেখক থমাস পিকেটি ও তাঁর সহযোগী লুকাস চ্যান্সেলের ভারতীয়দের আয়ের অসাম্য, ১৯২২-২০১৪শীর্ষক পেপার প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে উপরের ১% লোকের আয়বৃদ্ধি দেশ হিসেবে ভারতবর্ষে সর্বোচ্চ এবং তা ১৯৮২-৮৩ সালের ৬.২% থেকে বেড়ে ২০১৩-১৪ সালে ২১.৭%-এ দাঁড়িয়েছে যা ব্রিটিশ আমলের সর্বোচ্চ রেকর্ড ১৯৩৯-৪০ সালে ২০.৭% থেকেও বেশি। ১৯৮০-২০১৪ সালের মধ্যে জনসংখ্যার নীচের ৫০%-এর ৮৯%, তারপরের ৪০%-এর ৯৩%, জনসংখ্যার উপরের ১০%, ১%, ০.১%, ০.০১% ও ০.০০১%-এর আয়ের বৃদ্ধি ঘটেছে যথাক্রমে ৩৯৪%, ৭৫০%, ,১৩৮%, ,৮৩৪% ও ২,৭২৬%। আশির দশক থেকে আমাদের দেশে যে উদারবাদী নয়া আর্থিক নীতি চালু হয়েছে এর সাথে এই অসাম্য বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে।
             অন্যদিকে, ১১৯টি দেশের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটবিশ্ব ক্ষুধা সূচকের ফল প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে ২০১৪ সালেও বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে গোটা বিশ্বে ভারতের স্থান ছিল ৫৫। ২০১৬-য় সূচক নেমে আসে ৯৭-এ। আরও এক বছরের মধ্যে তা নেমে এল ১০০য়। ব্রিকস-ভুক্ত দেশগুলির মধ্যে ভারতের স্থান সর্বনিম্ন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরাক, কিম জং উনের উত্তর কোরিয়া, প্রতিবেশী নেপাল বা বাংলাদেশের নীচে নেমে গিয়েছে ভারত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। ধনী ও ব্যক্তি মালিকদের স্বার্থে রচিত ভারত সরকারের আর্থিক নীতির এ এক করুণ পরিণতি।
             দেশপ্রেম ও স্বদেশী অর্থনীতির কুচকাআওয়াজের আড়ালে ভারতবর্ষের সরকার কর্পোরেট দুনিয়ার নির্ধারিত উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করে আসছে। ইউপিএ জমানায় উদারনীতি ও কল্যাণনীতির মধ্যে যে সামান্য টানাপোড়েন ছিল, এনডিএ জমানায় তা একেবারেই উবে গেছে। আর্থিক সংস্কার কর্মসূচীর জয়গানে দিল্লির ক্ষমতার করিডোর উল্লসিত। এই উন্নয়ন মডেল ভারতবর্ষের নিজস্ব শিল্প বিকাশের পথকে করেছে অবরুদ্ধ, কৃষিনির্ভর ভারতীয় সমাজকে করেছে বিপর্যস্ত।
               লেনিন শিল্প পুঁজি ও বিত্ত পুঁজির (ব্যাংকিং পুঁজি) সম্পর্ক, একচেটিয়া মালিকানা ও পুঁজিবাদের সর্বশেষ রূপ সাম্রাজ্যবাদকে দেখেছিলেন। কিন্তু বহুবিধ ইনস্ট্রুম্যান্টের মাধ্যমে বিত্ত পুঁজির নিজস্ব বাজারের এতো ব্যাপক বিকাশ, বিশাল ও মিটিওরিক স্পিডে বিশ্ববাজারে ঘোরাফেরা করা বিত্ত পুঁজির নিজস্ব বিনিয়োগ অভূতপূর্ব। এই বিনিয়োগ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে না, অথচ ব্যক্তি মালিক বিনিয়োগকারীদের কাছে জমা হয় মুনাফার পাহাড়। এই মুনাফা আসে বাজারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আয়ের অর্থ পুঁজিপতিদের হাতে সঞ্চালিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এই প্রক্রিয়ার উপর রাষ্ট্র ও সরকারের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভেঙে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৭১ সালে মুদ্রার বিনিময় নীতিতে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড উঠিয়ে দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বিশ্ব আধিপত্য সুনিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে এবং এরপর সবকটি দেশকে তাদের নিজস্ব ফিনান্স সেক্টরের উপর নিয়ন্ত্রণ উঠিয়ে দিতে বাধ্য করে। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিশ্ব আধিপত্য আবার চ্যালেঞ্জের মুখে। বহুবিধ মুদ্রা তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক বাজারের উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে সচেষ্ট রয়েছে, কিন্তু মূল চ্যালেঞ্জটি আসছে চীনের কারেন্সি ইউয়ান বা রেনমিনবি থেকে। বিশ্বজোড়া যে এক যুদ্ধের পরিবেশ ও প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ব আধিপত্য বজায় রাখার আমেরিকান ওয়াল স্ট্রিটের আর্থিক নীতির ব্যর্থতা।
                মানবসভ্যতা প্রত্যক্ষ করেছে কীভাবে নতুন নতুন প্রযুক্তির আবিষ্কার দেশে দেশে শিল্পদ্যোগ গড়ে তুলেছে, কীভাবে স্টিম ইঞ্জিনের আবিষ্কার ভৌগোলিক বাধা অতিক্রম করে জাতিতে জাতিতে যোগাযোগ গড়ে তুলেছে, কীভাবে মানুষের জন্য কর্মসংস্থান গড়ে তুলেছে। উৎপাদনের সাথে ক্রমাগত জীবন্ত শ্রমিকের সংযোগ স্থাপন সুনিশ্চিত করেছে পুঁজির মুনাফা ও সঞ্চয়ন। বিগত কয়েক দশকে প্রযুক্তির দুনিয়ায় অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছে। নতুন প্রযুক্তি বিপ্লবের মাধ্যমে অটোমেশনের ফলে শ্রম সংকোচন ঘটছে তীব্র গতিতে। সাইবারটেনিকসের পর এসেছে রবোটিকস। চালকবিহীন গাড়ি চালু হচ্ছে ও রবোটের মাধ্যমে বৈদ্যুতিন লাইন মেরামতির মত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের সিটিগুলিতেও এ দৃশ্য আগামী দিনে হয়ত দেখা যাবে।
            স্বাধীনতা-উত্তর ভারতবর্ষে কৃষক বিদ্রোহ বিশেষ করে সত্তরের দশকের কৃষক বিদ্রোহের ফলে ১৯৭২ সালে জমির সিলিং নিয়ে জাতীয় নির্দেশিকা জারি হয়। ভারতবর্ষে সীমিত হলেও ভূমি সংস্কার হয়েছে, কৃষি মজুরের উপস্থিতি বৃদ্ধি ঘটায় বৃহৎ পুঁজিপতিরা পুঁজিবাদী কৃষি ফার্ম গড়ে তোলার ইচ্ছা ব্যক্ত করে সত্তরের দশকেই, সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে কৃষিতে যে আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার শুরু হয় তা বর্তমানে ব্যাপক আকার নিয়েছে, কৃষি সরঞ্জাম সরবরাহ ও উৎপন্ন সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ কমে গেছে এবং এই দুই ক্ষেত্রেই ঘটেছে বহুজাতিক কর্পোরেটদের ব্যাপক অনুপ্রবেশ, রপ্তানিযোগ্য ক্যাশ ক্রপ উৎপাদনে ও খাদ্য সামগ্রী ছাড়া অন্যান্য কৃষি উৎপাদনেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কৃষি সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও সরকারি সহায়তার অভাবে ভাগচাষ হয়ে পড়েছে অলাভজনক, মাঝারি কৃষকদের একাংশ কৃষি ফার্মের দিকে ঝুঁকছেন ও বড় অংশ কৃষি উৎপাদন থেকে অন্য পেশায় সরে যাচ্ছেন বরাক উপত্যকার মত পিছিয়ে পড়া অঞ্চলেও এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চুক্তি প্রথায় চাষের মদত দিচ্ছে বৃহৎ বহুজাতিক কর্পোরেট এই প্রবণতা আরও গতি পেয়েছে খুচরা বাজারও কর্পোরেটদের দখলে চলে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। প্রাকৃতিক সম্পদ, সম্পত্তি ও নির্মাণ সেক্টরে বিশ্বপুঁজির বিনিয়োগের প্রবণতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাপক কৃষক ও নগরায়ণের মাধ্যমে শহুরে আন্ডার-ক্লাস ব্যাপকভাবে উচ্ছেদ হচ্ছেন। এভাবে তৈরি হচ্ছে এক ব্যাপক গ্রামীণ ও শহুরে শ্রমিক বাহিনী ও প্রব্রজিত শ্রমিক এবং একইসাথে তৈরি হচ্ছে শ্রমিকদের রিজার্ভ আর্মি। এভাবে বহুবিধ অভ্যন্তরীণ ও বাইরের চাপে বদলে যাচ্ছে উৎপাদনের সামাজিক সম্পর্ক। বহুজাতিক পুঁজির ও বাজারের উপর নির্ভরশীল জমিদার পুঁজিপতি, কৃষক পুঁজিপতি ও ক্ষুদ্র কৃষক ও ব্যাপক কৃষি মজুর এটাই হচ্ছে কৃষি ব্যবস্থার প্রধান দিক। প্রতিটি সংকটকালে পুঁজির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চালু হয়। নয়া উদারবাদী পুনর্গঠনের ফলে সংগঠিত শ্রমিকদের ক্ষেত্র ভেঙে যাচ্ছে, জন্ম নিচ্ছে প্রতিটি অঞ্চল প্রতিটি জাতির মধ্য থেকে ব্যাপক অসংগঠিত শ্রমিক বাহিনী। এর প্রভাব পড়ছে পরিচিতির আন্দোলনগুলোতেও।
            বিগত দশকগুলোতে ভারতবর্ষে ও গোটা বিশ্বে যে পরিচিতির আন্দোলন জন্ম নিয়েছিলো সেগুলির অবস্থা কী? সেই আন্দোলনগুলি পরিচালিত হচ্ছিল মূলত মধ্যশ্রেণির নেতৃত্বে এবং আম জনতা তাদের আহ্বানে সামিল হচ্ছিলেন। এই আন্দোলনগুলি এখন ভাঁটার টানে। কিন্তু পরিচিতির গণতান্ত্রিক অধিকারের অন্তর্বস্তুর নিষ্পত্তি হয়ে যায়নি। এই সংগ্রাম জাগ্রত হবে শ্রমিক শ্রেণির দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ও শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে। 
                  বহুজাতিক কর্পোরেট পুঁজির নিয়ন্ত্রণাধীন ভারতীয় অর্থনীতি তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে। বিগত প্রায় তিন দশক থেকে জবলেস গ্রোথের পর্যায় চলছে ক্রমাগত। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে ব্যক্তি পুঁজির বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার সম্ভাবনাও ক্ষীণ,পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কে অর্থের যোগান দিয়ে ধার দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর সরকারি পদক্ষেপ কতটা উৎপাদনী বিনিয়োগ বাড়াতে সক্ষম হবে তা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। একদিকে ব্যাপক কর্মহীনতা ও অন্যদিকে ভারতীয় গণতন্ত্রে ভোগ করে আসা যেটুকু সামাজিক নিরাপত্তার ও আয়ের গ্যারান্টি ছিল তাও হারাচ্ছে কর্মরত শ্রমিক শ্রেণি। উৎপাদনের সাথে জীবন্ত শ্রমিকের সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সংকুচিত হওয়া একদিকে যেমনি পুঁজির সংকট ডেকে এনেছে, অন্যদিকে শ্রমিক শ্রেণিকেও করে তুলছে অস্থির। এই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে সমাজ ও রাজনীতিতে। বহুধা বিভক্ত শ্রমিক শ্রেণিকে ঐক্যবদ্ধ করার ও শ্রমিক শ্রেণির উদ্দেশ্যে বহুজাতিক কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত করার বিপ্লবী প্রস্তুতির আহ্বান জানানোর সময় সমাগত।


           







            

            





            

Hindutva and Passive Revolution

Posted by স্বাভিমান Labels: , , ,



Arup Baisya

       


(C)Image
   During initial post-independence formative phase of nation building, Congress could maintain its hegemony over the Indian masses through ‘economic development policy’, by maintaining certain characteristic traits of welfare state. A crisis of hegemony occurs when a force that has formerly exerted political, economic and ideological leadership over society is challenged from below and is no longer able to sustain a cohesive bloc of social alliances. Within the garb of a welfarist and import substitutionist approach, the Indian economy was never delinked from global imperialist thrust and as such policy of income-deflation of majority of Indian masses was followed to serve the interest of the imperialist metropolis. The uneven development of Indian economy which has never been adequately addressed in the post-independence state formation has been operational through the class-caste-community and urban-rural cleavages, and the graph of inequality has always revealed an increasing trend despite ameliorative measures like poverty alleviations. This has become more prominent in the case of religious minority community which, unlike the other various caste groups, was deprived of the benefit of reservation by the state in a bid to compromise with communal pressure from within in the post-partition social milieu. When a substantial middle class has emerged in big cities and medium sized towns, mass poverty and illiteracy have remained permanent features of much of the landscape of rural India. A growing urban underclass, especially susceptible to communal incitement, has also appeared in countless slums and shantytowns.


              The structural deficiency in the history of twentieth-century nationalism is embedded in the fact that religion played a central role from the beginning in organising those movements. The most significant cases are, those which eventually founded stable parliamentary democracies. The three leading states of this type in the world today are Ireland, Israel and India. In all three, the nationalist party that came to power after Independence—Fine Gael, Mapai, Congress—distanced itself from the confessional undertow of the struggle, without, however, ever being able to tackle its legacy head-on. In each case, as the ruling party gradually lost its lustre, it was outflanked by a more extreme rival that had fewer inhibitions about appealing directly to the theological passions aroused by the original struggle—Fianna Fail, Likud, BJP. The success of these parties was due not just to the faltering of the first wave of office-holders, but to their ability to articulate openly what had always been latent in the national movement, but neither candidly acknowledged nor consistently repudiated. In each case, the setting was a parliamentary system, in which they operated constitutionally.
            Though the long history of parliamentary system of Indian democracy played a vital role in mitigating certain weaknesses of the Indian independent state at its birth, the deformities at the birth have its bearings on the future statecraft. Perry Anderson in his book 'The Indian Ideology' has very aptly described the character of the Indian independent slate at the time of its birth in 1947. At the time of Indian independence, only 12 percent of population could read or write. As for poverty, per capita income in India was abysmally low and is not very significant till today. It is these magnitudes that make Indian democracy so remarkable a phenomenon. But the colonial bureaucracy and army was left intact, minus the colonizers. In the mid-30s Nehru, denouncing the Indian civil service as 'neither Indian nor civil nor a service', declared it 'essential that ICS and similar services disappear completely'. By 1947 pledges like these had faded away as completely as his promises that India would never 'under any circumstances' become a dominion. In the last year of the Raj, its upper ranks had been Indianised and there was no other corps of native administrators available. But if this was true of the bureaucracy, it was not of the army. Indigenous officers and soldiers had fought bravely, arms in hand, against the Raj in the ranks of the Indian National Army. What was to be done with them, once the British left? Their record, a potential reproach to Congress, they were refused any integration in the armed forces of the former colonial power, veterans of domestic oppression and overseas aggression fresh from imperial service in Saigon and Surabaya, that now became the military apparatus of the new order. Nor was there any purge of the police that had beaten, jailed and shot so many in the struggle for independence: they too were kept intact. Some 250 out of its 395 articles were taken word by word from the Government of India Act.
             On the ideological front, Indian post-independence statecraft has also failed to maintain a safe distance from religious symbols and vocabularies. Barring the constitutional provisions for allowing the autonomy of minority institutions, the rampant use of Hindu religious symbols in almost all the institutions of the state and the state-sponsored functions leaves an indelible mark on the muslim minds about the biasness of the state and alienate the minority section from the process of building a secular state.

The Decline of Congress
          These weaknesses of the Indian state during its post-independence formative period make it vulnerable to occasionally succumb to the pressure from religious bigotry from within. The 'Hindu nationalist' campaign which was an undertow within the freedom movement has been, in the main, a war of position with a long-term vision of Hindu state. The hegemony in competitive party-politics was reflected first in a dramatic decline in support at all-India, regional and provincial levels at the first general election after Nehru's death in 1967 followed by the split of Congress party in 1969. This is the time when Kynesian welfarist economy in post-war global capitalism has also entered into crisis of kondratiev cycle. It was the decline of the old Congress that explained the rise of Mrs Indira Gandhi. The emergency was nevertheless a watershed in Indian politics since popular reaction against it broke for the first time the monopoly of government in Delhi enjoyed by Congress since independence. After massive backlash against Mrs Gandhi's Emergency regime (1975-77), Indira Gandhi stormed back to office in 1980, but her mandate did not mean renewed stability, rather it was an electoral rejection of dysfunctional Janata coalition. Drifting away of popular support for Congress in various provinces was formidable by next general election due by end-1984. Mrs Gandhi then resorted to placate Hindu votes by campaigning on Hindu communal line and that the Hindu BJP supporters shifted allegiance to Congress was reflected in J&K and Delhi election. Communal appeal, ultra-nationalist rhetoric and centralisation of power were the game plan Congress resorted to woo the Hindu vote base influenced by the RSS organisational network. In the social turmoil in northern India on caste line, Congress also exposed its upper caste bias by sending the Mandal Commission report in cold storage. Congress was vacillating between its original organisational policy of maintaining coalition character and the soft Hindutva and casteist bias at a time when the structural adjustment programme as neo-liberal policy drive, had its sway on economic front. The soft Hindutva and the uppercaste biases have shattered the Congress character of representing the rainbow coalition of various identities, and the Congress was ousted from power in 1989. The upper-caste consolidated behind the BJP, a party rhetorically committed not only to the indivisible, organic unity of the 'Hindu Nation', but also the political affiliate of an organisation, RSS, which has consistently displayed unflinching hostility to the idea of 'reservation'. The announcement made by V P Singh in 1990 to implement the recommendation of Mandal Commisssion report opened up the Pandora's Box. The timing itself was largely coincidental, and was the culmination of a long process of alienation of Kashimiri Muslims from Indian state due to the denial and subversion of their basic democratic and human rights. The Kashmir uprising has however supplied the Hindutva movement with an unrivalled propaganda weapon. For here was 'evidence' of the diabolical design of a group of Muslims living in India to destroy India's unity in conjunction with the historical enemy, Pakistan. The 'enemy within' and 'enemy without' conspiracy theory, a longstanding staple of 'Hindu nationalist' worldview, was ostensibly finding some vindication. In these circumstances, the Hindutva forces found it as an opportune moment to make a tactical shift from their long drawn out war of position to war of movement. Ramjanambhumi issue which was hitherto played by the Congress regime as a low intensity propaganda tool to assuage so-called Hindu sentiment was snatched by BJP with aggressive posture and nationwide movement. This culminated into the demolition of Babri Mosque, and in the post-independence period, in the 1990s communalism has once again taken a centrestage in academic and political debates seeking to preserve or capture centralised state power. The Congress, and particularly PM Narasimha Rao, before and after December 6 appears so disastrous, indeed suicidal, even from the point of view of narrow party interest, appears to be an attempt to compete with the BJP for the 'Hindu Card'. Successive Congress regimes in the 1980s surreptitiously invoked a nebulous form of Hindu majoritarianism which has been crafted into a more potent political ideology by the forces of Hindutva. In the post colonial scenario in general, and the conjuncture created by the Ayodhya controversy in particular, the Indian secular response has been to tar both Hindu majoritarianism and Muslim minoritarianism with the brush of communalism. While exploring the nexus of culture and political power the argument avoids presuppositions which erroneously link a religiously informed cultural identity with the politics of cultural nationalism. By contrasting the muslim politics in the sub-continental context, it aims at demonstrating the largely arbitrary and exclusionary nature of the term 'communal' as it has been applied to individuals and political groupings claiming to represent Indian muslims. The dominant Hindutva majoritarian campaign with a desire to build a monolithic Hindu social unity and a Hindu state finds no difficulty to interpret this binary of secular response, inter alia, in their favour.

Nazism in Germany
            Though comparative studies is not very effective in judging a phenomenon which has a past historical setting, but it sometimes gives a clear vision of a model that can predict what is forthcoming. Moreover, rise of fascism in one country cannot be sui generis; there must be some resemblances and a common law of motion everywhere. If we ignore the similarities and dissimilarities of the historical and civilisational past of the Indian sub-continent and that of Western Europe, we can safely delineate the certain aspects of the phenomenon of rise of fascism in Germany in the 1930s to understand present day Indian socio-political and economic turn of events.
              By the time of the Social Democratic Party's (SPD) successful 1928 election campaign, socialists and representatives of capital alike had come to believe that the weekly wage was a political wage, dependent on the political representation of labour. Incremental social and wage gains lay at the centre of labour's strategy—capital's fears. Indeed, successful social democratic reformism appeared as more of a threat than communist agitation. Wage and social welfare policy became the sine qua non of left politics in Weimer.
              Although capitalism was by far the dominant mode of production in Weimer Germany, other modes also existed—the family peasant, small commodity, and even feudal modes coexisted with industrial capitalism. The economic, political, and ideological practices of all these partially amalgamated sub-societies constituted the German social formation. Both Germany and Italy were societies experiencing accelerated capitalist transformation, through which entire regions were being visibly converted from predominantly rural into predominantly urban environment. In both cases the process was extremely uneven with large region trapped into social and economic backwardness. This situation produced complex political effects. The pace of social change outstripped the adaptive capabilities of the existing political institutions.
If one delves into the Indian reality post eighties, it becomes apparent that the somewhat welfarist character of the Indian state has been anathema to the neoliberal economic policy. The austerity measures to cut the social expenditure of the state and unbridled privatisation to dismantle organised labour and to maximise private profit have been most sought after policy drive of the neo-liberals world-wide. The urbanisation and pauperisation are the fallout of the implementation of the policy officially adopted by the Indian state in 1990. Though the capitalist mode of production is in the driving seat of the Indian economy, all other pre-capitalist relations do exist to keep the level of income of the vast Indian masses low under duress. India, like the Weimer period of Germany, has been suffering not only from its development of capitalist production, but also from its incompleteness.
             In the context of the Weimer crisis, adjustment within the existing institutional arrangements looked increasingly untenable, and more radical solutions beyond the boundaries of the existing political system consequently became more attractive. The problem of defining fascism is therefore not exhausted by describing its ideology. Fascism was not just a particular style of politics; it was also inscribed in a specific combination of political conditions. The political crisis of war and revolution between 1914 to 1923 and the crisis associated with the great depression after 1929 is the objective reality on which fascist movement arose.
          German communist party's erroneous perception on fascism and its role from 1928 to 1935 contributed indirectly and substantially to Hitler's victory. The conservative and authoritarian governments of Chancellors Henring Bruning, Franz von Papen, and General Kurt von Schleicher in Germany between 1930 and 1932 described as already fascist, thus trivialismg the danger of Hitler's accession to power. And social democrats were branded a twin of the moderate wing of fascism.

Alternative Discourse
             The Indian status distinction between mental and manual workers is much wider than that of the then German society. The presence of professional managers and administrators among Nazi activists is now well attested, and the similar phenomenon cannot go unnoticed in India too. The Indian caste system created a structural and functional barrier against working class unity to resist fascist upsurge in the backdrop of launching an all out onslaught on labour rights.
              The lack of clear vision about the rise of Hindutva forces in India and the strategic dilemma to face this menace keep the secular and democratic forces in doldrums. Instead of analysing the socio-political and economic reasons responsible for the rise of Hindutva, the discourse on the basis of majority vs Minority appeasement obfuscates the real danger of fascist takeover of the Indian state.
             One major distinction between the Hindutva of today and European Fascism, particularly the Nazi variety, lies in a very different relationship with established religious traditions. Nazis sought to ground identity on race, not religion, and called on youth to build a new civilisation which could at times sound openly anti-Christian. The Sangh Parivar, by very definition, has to preach total adherence and deference towards Hindu traditions even while fundamentally transforming them. That this has been a source of tremendous strength hardly needs to be stated; just possibly, it could also be transformed into a weakness given effective counter-strategies.
             In India fascist tendencies are currently at work in two forms, one direct, other more insidious. The more direct form consists chiefly in the mobilisation of a communal mass base which fluctuates in intensity but is clearly seen by the RSS as the organic strategy, and the one most directly linked to its ideology of extreme nationalism. Mass communalism and sustained communal propaganda have been supplemented by more insidious subversions of democracy that combine the elements of a war of position with a war of movement. The Ramjanambhumi movement and the recent cow vigilantism are such fascist mass movement to build monolithic Hindu culture with one supreme heroic one-dimensional characterisation of Lord Ram and religiously codified common lifestyle by destroying and replacing the diversity ingrained in Indianness and even in the Hinduism itself. The economic ramifications of ban on cow and buffalo do not deter the fanning of cow nationalism to steer the fascist ideology to grab the masses as it mostly effect the muslims and lower castes Hindus who cart cattle, labour in tanneries and make shoes, bags and belts including for big name brands such as Zara and Clarks. These fascist movements are preparing the ground for the rise of fascist forces because communalism is on the rise not so much because large numbers of communal riots are taking place, but because large numbers of people who not only keep away from communal riots but also sincerely condemn them, become participants in kind of communal consensus in which series of assumptions and myths have turned into common sense.
          In the absence of an agenda and force for radical change of crisis-ridden Indian society, the passive revolution of fascist variety is taking place. The passive revolution which Gramsci also calls 'revolution-without-a-revolution" is a historical situation in which new political formation comes to power without fundamentally reordering social relations, bit rather by adapting to and gradually modifying the status quo.
           The objective aims of fascism are largely irrational in so far as they contradict the material interest of those whom they try to embrace. Since it would be impossible for fascism to win the masses through rational arguments, its propaganda must necessarily be deflected from discursive thinking; it must be oriented psychologically, and has to mobilise irrational unconscious, regressive processes. Theodor W Adorno in his essay 'Freudian theory and the pattern of fascist propaganda' explained that under the prevailing conditions, the irrationality of fascist propaganda becomes rational in the sense of instinctual economy. For if the status quo is taken for granted and petrified, a much greater effort is needed to see through it than to adjust to it and to obtain at least some gratification through identification with the existent—the focal point of fascist propaganda. This may explain why ultra-reactionary mass movements use the 'psychology of masses' to a much greater extent than do movements which show more faith in masses. However, there is no doubt that even the most progressive political movement can deteriorate to the level of the 'psychology of the crowd' and its manipulation, if its own rational content is shattered through the reversion to blind power.
                 An alternative discourse challenging the allegiance to blind power and based on working class perspective—on cultural diversity endorsed by our civilisational past—and on united efforts of all oppositional forces to resist the rise of communal politics can only defeat fascism.

References :
(1)   The Indian Ideology, Perry Andersion, 2014, Three Essays Collectives.
(2)  Fascism : Essays on Europe and India, Edited by Jairus Banaji, 2016, Three Essays Collectives.
(3)  Radical Perspectives On The Rise of Fascism In Germany, 1919-1945, Edited by Michael N. Dobkowski & Isidor Walliman,,2003, Cornerstone Publications.
(4)  Nationalism, Democracy, Development : State and Politics in India, Edited by Sugata Bose & Ayesha Jalal, 2012, Oxford University Press.
(5)     The Culture Industry, Theodor W. Adorno, 2001, Routledge Classics.
Frontier
Autumn Number
Vol. 50, No.12-15, Sep 24 - Oct 21, 2017

স্বাভিমান:SWABHIMAN Headline Animator

^ Back to Top-উপরে ফিরে আসুন